অভিজাত এলাকায় অপরাধের অভয়ারণ্য, অতিষ্ঠ সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীরা
এমদাদুল হক মিলন
রাজধানীর সবচেয়ে অভিজাত ও নিরাপদ এলাকা হিসেবে পরিচিত গুলশান-বনানী। কিন্তু সেই অভিজাত এলাকার ভেতরেই এখন গড়ে উঠেছে অপরাধের এক ভয়ংকর নেটওয়ার্ক। সরেজমিন অনুসন্ধানে দেখা গেছে, এখানে স্পা, ম্যাসাজ পার্লার ও বিউটি সেন্টারের নামে চলছে রমরমা দেহ ব্যবসা, মাদক সেবন ও বিক্রি, এবং নিয়মিত মারামারি-হানাহানি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক স্থানীয় বাসিন্দা ও ব্যবসায়ী জানান, সন্ধ্যা নামলেই এসব তথাকথিত স্পা সেন্টারের চেহারা বদলে যায়। বাইরে থেকে ঝকঝকে সাইনবোর্ড আর ভেতরে চলে অশ্লীল কর্মকাণ্ড। বিভিন্ন অ্যাপ ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে চটকদার বিজ্ঞাপন দিয়ে খদ্দের ডাকা হয়। প্রতি ঘন্টায় ৩ থেকে ১০ হাজার টাকার বিনিময়ে চলছে এই অবৈধ ব্যবসা।
যেভাবে চলে চক্র:
১. নারী দিয়ে দেহ ব্যবসা: অসহায় ও বিপথগামী তরুণীদের মোটা টাকার লোভ দেখিয়ে এই চক্রে আনা হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
২. মাদকের আখড়া: অনেক স্পা সেন্টারেই দেশি-বিদেশি মাদক, বিশেষ করে ইয়াবা, আইস ও বিদেশি মদ সহজেই পাওয়া যাচ্ছে।
৩. মারামারি ও আধিপত্য বিস্তার: টাকার ভাগ-বাটোয়ারা, এলাকা দখল ও মেয়েদের নিয়ে দ্বন্দ্বে প্রায়ই এসব সেন্টারের কর্মচারী ও বাউন্সারদের মধ্যে রক্তক্ষয়ী মারামারি হয়, যা পুরো এলাকার নিরাপত্তার জন্য হুমকি।
সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও একটি অদৃশ্য শক্তির ছত্রছায়ায় এসব প্রতিষ্ঠান বছরের পর বছর ধরে প্রকাশ্যে চলছে। সাধারণ মানুষ প্রশ্ন তুলছেন, অভিজাত এলাকায় এতগুলো সিসিটিভি, পুলিশ টহল ও গোয়েন্দা নজরদারির মধ্যেও কিভাবে এই অবৈধ ব্যবসা চলছে?
গুলশান বিভাগের দায়িত্বশীল এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “আমরা কিছু অভিযোগ পেয়েছি, অভিযান চলমান আছে।” কিন্তু স্থানীয়দের দাবি, লোক দেখানো অভিযানে কাজ হবে না, প্রয়োজন নিয়মিত ও কঠোর অভিযান।
এলাকাবাসীর দাবি, অবিলম্বে গুলশান-বনানীর প্রতিটি স্পা সেন্টারের লাইসেন্স যাচাই, সিসিটিভি ফুটেজ পরীক্ষা এবং এর আড়ালে থাকা মূল হোতাদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া হোক। না হলে রাজধানীর প্রাণকেন্দ্র এই অভিজাত এলাকা অচিরেই অপরাধের স্বর্গরাজ্যে পরিণত হবে।