নিবন্ধন শাখার দুর্নীতি ও করণীয়

নিবন্ধন শাখার দুর্নীতি ও করণীয়

মোঃএমদাদুল হক মিলন

বাংলাদেশে জন্ম নিবন্ধন এখন সবচেয়ে জরুরি নাগরিক সেবাগুলোর একটি, আর এই জায়গাতেই দুর্নীতি ও হয়রানি সবচেয়ে বেশি।
জন্ম নিবন্ধন শাখায় কী ধরনের দুর্নীতি হয়?
১. সরাসরি আর্থিক দুর্নীতি:
• সরকারি ফি ৫০ টাকার জায়গায় ২০০-১০০০ টাকা নেওয়া। ৪৫ দিনের মধ্যে আবেদন ফ্রি হলেও টাকা দাবি করা হয়। • দালাল চক্রের মাধ্যমে কাজ করানো। ইউনিয়ন পরিষদ বা সিটি কর্পোরেশনের বাইরে কম্পিউটারের দোকানে ৫০০ টাকার ফরম পূরণ বাবদ ১০০০-১৫০০ টাকা রাখা।
২. হয়রানি ও গাফিলতি:
• অনলাইনে আবেদনের ১৫ দিন পর কাগজ জমা দিতে বলা হলেও মাসের পর মাস ফেলে রাখা হয়। • নামের বানান ভুল, বয়স ভুল করে ইচ্ছে করে সংশোধনের নামে আবার টাকা নেওয়া।
৩. বড় জালিয়াতি:
এটা এখন জাতীয় সমস্যা। লক্ষ্য পূরণের জন্য ভুয়া নিবন্ধন করা হচ্ছে।
• ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা জড়িত থেকে মহাখালীর গলি থেকেই দেশের যেকোনো ঠিকানায় জন্ম সনদ বানিয়ে দিচ্ছে বলে অনুসন্ধানে এসেছে। • লক্ষ্মীপুরে ৭৪ শিশুর ভুয়া জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন – ১৮ বছর বয়সী মায়ের ১৯ সন্তান, মায়ের মৃত্যুর ২০ দিন পর সন্তান জন্ম দেখানো হয়েছে এমন জালিয়াতি ধরা পড়েছে। পরে সচিবের ক্ষমতা কেড়ে নেওয়া হয়।
এই দুর্নীতির কারণে আপনার NID, পাসপোর্ট, স্কুল ভর্তি সব আটকে যায়।
আপনার করণীয় কী?
আপনি যখন সেবা নিতে যাবেন:

১. অনলাইনে নিজে আবেদন করুন: bdris.gov.bd তে নিজে আবেদন করুন। দোকানে নয়। আবেদন কপির রিসিভ কপি প্রিন্ট রাখুন।
২. রশিদ ছাড়া এক টাকাও দেবেন না: সরকারি ফি-র জন্য অবশ্যই চালান/রশিদ নেবেন। মুখে টাকা চাইলে বিনয়ের সাথে বলুন “রশিদ দেন, আমি সরকারি ফি দিচ্ছি।”
৩. প্রমাণ রাখুন: কে টাকা চাইলো, কত চাইলো, তার অডিও/ভিডিও বা নাম-তারিখ লিখে রাখুন।

অভিযোগ কোথায় করবেন – ধাপে ধাপে:

ধাপ ১ – স্থানীয়ভাবে: সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান / পৌর মেয়র / সিটি কর্পোরেশনের আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা এবং উপজেলা নির্বাহী অফিসার (UNO) বরাবর লিখিত অভিযোগ দিন।

ধাপ ২ – সরাসরি সরকারি হটলাইনে:
• ৩৩৩ নম্বরে কল: এটা সরকারের তথ্য ও অভিযোগ কেন্দ্র। জন্ম নিবন্ধন নিয়ে যেকোনো হয়রানির অভিযোগ এখানে করলে তা সরাসরি সংশ্লিষ্ট UNO/DC অফিসে যায়। • ১০৬ নম্বরে কল: দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। ঘুষ চাইলে এখানে অভিযোগ করুন।
ধাপ ৩ – আইনগত ব্যবস্থা:
জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন আইন, ২০০৪ এর ধারা ২১ অনুযায়ী মিথ্যা তথ্য দিয়ে নিবন্ধন করলে বা জেনেশুনে মিথ্যা নিবন্ধন করলে সংশ্লিষ্ট নিবন্ধক সহ ৫০০০ টাকা জরিমানা বা ১ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড বা উভয় দণ্ড হতে পারে। একই শাস্তি ভুল তথ্য প্রদানকারীর জন্যও প্রযোজ্য।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *