নারায়ণগঞ্জে প্রতিপক্ষের গুলিতে শীর্ষ সন্ত্রাসী ও ডাকাত সাহেব আলী নিহত
মোাঃএমদাদুল হক মিলন
নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষের গুলিতে পুলিশের তালিকাভুক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসী ও একাধিক মামলার আসামি ডাকাত সাহেব আলী (৪০) নিহত হয়েছেন। সোমবার বিকেলে সিদ্ধিরগঞ্জের ওয়াপদা বউবাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। প্রকাশ্য দিবালোকে গুলি ও ইট দিয়ে থেঁতলে তাঁকে হত্যা করা হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।
স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়, সোমবার বিকেলে সিদ্ধিরগঞ্জের ওয়াপদা বউবাজার এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে স্থানীয় রনি গ্রুপের সদস্যরা সাহেব আলীর ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। হামলার একপর্যায়ে রনি গ্রুপের সদস্যরা সাহেব আলীকে লক্ষ্য করে একাধিক রাউন্ড গুলি ছোড়ে। গুলিবিদ্ধ হয়ে তিনি রাস্তার পাশের একটি ডোবায় পড়ে গেলে সন্ত্রাসীরা তাঁর ওপর ইট দিয়ে উপর্যুপরি আঘাত করে নিশ্চিত মৃত্যু নিশ্চিত করে।
পরে খবর পেয়ে পরিবারের লোকজন তাঁকে মুমূর্ষু অবস্থায় উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
এদিকে হত্যাকার্দের একটি সিসিটিভি ফুটেজ ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে এসেছে। ওই ফুটেজে হামলার সময় রনিকে সরাসরি সাহেব আলীর দিকে গুলি ছুড়তে এবং পরবর্তীতে ইট দিয়ে আঘাত করতে স্পষ্ট দেখা গেছে।
ঘটনার পরপরই সিদ্ধিরগঞ্জ থানা-পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অন্যান্য টিম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে আলামত সংগ্রহ করে।
এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তারেক আল মেহেদী জানান, “গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর সাহেব আলীকে ঢাকা মেডিকেলে নেওয়া হলে সেখানে তাঁকে মৃত ঘোষণা করা হয়। নিহত সাহেব আলী আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তালিকাভুক্ত একজন শীর্ষ সন্ত্রাসী। তাঁর বিরুদ্ধে পুলিশের ওপর হামলার মামলাসহ বিভিন্ন অপরাধের একাধিক মামলা রয়েছে। তাঁকে হত্যার ঘটনায় যারা জড়িত, আমরা তাদের ইতিমধ্যে চিহ্নিত করেছি। আসামিদের আইনের আওতায় আনার প্রক্রিয়া দ্রুত চলছে।”
পুলিশ আরও জানায়, নিহত সাহেব আলীর বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় ডাকাতি, ছিনতাই, অস্ত্র এবং নারী নির্যাতনসহ একাধিক গুরুতর মামলা রয়েছে। বিশেষ করে, গত ২০২৫ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর রাতে সিদ্ধিরগঞ্জের বউবাজার এলাকায় তৎকালীন র্যাব-১১-এর একটি দলের ওপর অতর্কিত হামলা চালায় সে। এছাড়া চলতি বছরের আগস্ট মাসে ওয়াপদা কলোনি এলাকায় পুলিশের ওপরও হামলা চালায় এই সন্ত্রাসী।
নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে রাখা হয়েছে। এ ঘটনায় এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করলেও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।