নিজস্ব প্রতিবেদকঃ
বর্তমান বাংলাদেশে নিষিদ্ধ ঘোষিত রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা সরাসরি মাঠে নামতে ব্যর্থ হয়ে কৌশল পরিবর্তন করেছে। সরাসরি রাজপথে নামার মতো ইতিবাচক রাজনৈতিক পরিবেশ বা জনগণের গ্রহণযোগ্যতা তাদের নেই।
দেশ বিদেশের নানা পর্যায় থেকে বৈধতা অর্জনের সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়েও তারা ব্যর্থ হয়েছে, কারণ দেশের সাধারণ মানুষ এবং রাজনৈতিক সচেতন সমাজ আওয়ামী লীগকে একটি ‘গণহত্যাকারী শক্তি’ হিসেবেই বিবেচনা করে। এই বাস্তবতায়, আওয়ামী লীগ পুনরায় রাজনীতিতে নিজেদের অবস্থান তৈরি করতে এক নতুন ছদ্মবেশ ও কৌশল অবলম্বন করছে বলে তীব্র গুঞ্জন ও পরিলক্ষিত হচ্ছে। এই কৌশলের অংশ হিসেবে তারা নুরুল হক নূরের নেতৃত্বাধীন‘ গণঅধিকার পরিষদ’কে হাতিয়ার হিসেবে বেছে নিয়েছে।
ভারতসহ বিভিন্ন উচ্চ মহলের শক্তির মাধ্যমে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ বর্তমান সরকারের সঙ্গে সমঝোতা করে বৈধতা পাওয়ার চেষ্টা চালিয়েছিল। তবে দেশের সর্বস্তরের জনগণ, বিরোধী দলসমূহ যেমন: জামায়াতে ইসলামী, এনসিপি সহ ১৪ দল। এবং সরকারের ভেতরের সরাসরি ফ্যাসিস্ট বিরোধী বড় একটি অংশের কঠোর অবস্থানের কারণে তাদের সেই প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে।
নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগকে সরাসরি কোনো প্রকার ছাড় দেওয়া মানেই এই দেশের রাজপথের শক্তিগুলোর কাছে সরকারের জবাবদিহিতার মুখোমুখি হওয়া। তাই সরকারের কাছ থেকে বৈধতা না পেয়ে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের হাজার হাজার পলাতক নেতা-কর্মী ও যুবলীগের সদস্যরা এখন গণঅধিকার পরিষদের ব্যানার ও সাইনবোর্ড ব্যবহার করছে। গত ৫ই আগস্টের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর থেকে আত্মগোপনে থাকা বহু আওয়ামী সুবিধাভোগী এখন গণঅধিকার পরিষদের রাজনীতিতে ভিড় জমিয়েছে এবং তাদের ছায়ায় নিজেদের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে।
সরকার ও দেশের জনগণের সুদৃঢ় অবস্থানকে নড়বড়ে করতে নুরুল হক নূর ও তার সংগঠন জামায়াতে ইসলামী এবং এনসিপি সহ ১৪ দলের বিরুদ্ধে লাগাতার বিতর্কিত ও বিভ্রান্তিকর বক্তব্য প্রদান করে বেড়াচ্ছে। সরকারের অন্দরমহলে বসে থাকা নূর রাশেদের বিভিন্ন বক্তব্য বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, তারা পরোক্ষভাবে ফ্যাসিবাদের দোসরদের রক্ষা করতে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার নীতি গ্রহণ করেছে। যাতে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ কে পুনরায় রাজনৈতিক মাঠে অবস্থান করাতে পারে।
যদি এখনই সরকারের অভ্যন্তরে কিংবা রাজনৈতিক অঙ্গনে বিদ্যমান এই অদৃশ্য নূর রাশেদ দোসরদের চিহ্নিত করে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ না করা হয়, তবে দেশ ভবিষ্যতে এক গভীর সংকটে পড়তে পারে।
গণঅধিকার পরিষদের কাঁধে ভর করে নিষিদ্ধ শক্তি যদি রাজনীতিতে পুনরায় বৈধতা ও পুনর্বাসন পায়, তবে তা বাংলাদেশের সার্বিক সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তার জন্য চরম হুমকি হয়ে দাঁড়াবে। ফ্যাসিবাদী রাজনৈতিক শক্তির পুনরাগমন ঘটলে বিরোধী রাজনৈতিক ১৪ দল সহ বিএনপি, জামায়াত, এনসিপি এবং সাধারণ জনগণ থেকে শুরু করে ছাত্র-জনতার ওপর পুনরায় ব্যাপক দমন-পীড়ন ও গণহত্যার মতো চরম নৃশংসতা নেমে আসার আশঙ্কা রয়েছে।