ঢাকা-৫ আসনে ছদ্মবেশে আওয়ামী লীগের তৎপরতা ও রূপ বদল: বিএনপির একটি অংশের প্রশ্রয় ও অভ্যন্তরীণ সংকট

ঢাকা-৫ আসনে ছদ্মবেশে আওয়ামী লীগের তৎপরতা ও রূপ বদল: বিএনপির একটি অংশের প্রশ্রয় ও অভ্যন্তরীণ সংকট

​মতপ্রকাশ —

​ঢাকা-৫ আসনভুক্ত যাত্রাবাড়ী, ডেমরা ও কদমতলী এলাকার সামগ্রিক রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং বিশৃঙ্খলার পেছনে একটি বিশেষ সুবিধাভোগী গোষ্ঠীর সুদীর্ঘ চক্রান্ত দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে আসছে। গত ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানে ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার পতন ও দেশত্যাগের পর আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতারা কারাগারে, বিদেশে কিংবা আত্মগোপনে চলে গেলেও থেমে নেই তাদের গোপন কার্যক্রম।

​স্থানীয় ও মাঠপর্যায়ের নেতাকর্মীদের মতে, নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের এই চক্রটি টিকে থাকতে এবং নিজেদের অপরাধ ঢাকতে নতুন কৌশল অবলম্বন করেছে। কখনো বিএনপি, কখনো অন্য রাজনৈতিক দলের ভেতরে নিজেদের লোক প্রবেশ করিয়ে তারা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করছে। এ ক্ষেত্রে একটি নির্দিষ্ট মহলের বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগের এজেন্ট হিসেবে কাজ করার অভিযোগ জোরালো রয়েছে, যারা এই পুরো অঞ্চলকে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখতে চায়।

​অনুসন্ধানে দেখা যায়, পালিয়ে থাকা বা আত্মগোপনে থাকা শীর্ষ আওয়ামী নেতাদের সরাসরি অর্থায়নে এই চক্রটি পুনরায় সংগঠিত হওয়ার পাঁয়তারা চালাচ্ছে। আওয়ামী লীগের অনেক প্রভাবশালী নেতা ও তাদের দোসররা বর্তমানে রূপ বদল করে বিএনপিপন্থী সাংবাদিক, শিক্ষক কিংবা বুদ্ধিজীবী ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধি সেজে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। এর আড়ালে তারা নিষিদ্ধ সংগঠনটির সাংগঠনিক কার্যক্রম এবং নানা অপতৎপরতা অব্যাহত রেখেছে। ​”বিগত দেড় দশকে ফ্যাসিস্ট সরকারের অনুগত পুলিশ প্রশাসনের নিষ্ঠুর দমন-পীড়নের শিকার হয়ে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ঢাকা-৫ আসনের বিএনপি, যুবদল ও ছাত্রদলের তৃণমূলের নেতাকর্মীরা। গায়েবি মামলা, রিমান্ডের নামে অকথ্য শারীরিক নির্যাতন এবং চিরুনি অভিযানের মুখেও যারা রাজপথ ছাড়েননি, আজ তাদেরই কোণঠাসা করে রাখা হয়েছে।”

​আশ্চর্যজনক হলেও সত্য যে, মূলধারার বিএনপির কিছু নেতার প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ আশ্রয়-প্রশ্রয়ে আওয়ামী লীগের এই ক্যাডার ও নেতাকর্মীরা পার পেয়ে যাচ্ছে এবং চাঁদাবাজি থেকে শুরু করে নানা অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছে। দিনশেষে যার দায় পড়ছে বিএনপি নেতাকর্মীদের ওপর। অনেক ক্ষেত্রে মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে তাদের নিরাপদে বিএনপিতে স্থান দেওয়া হচ্ছে কিংবা গোপনে রক্ষা করা হচ্ছে।

​এই দ্বিমুখী নীতির প্রতিবাদ করতে গিয়ে চরম বিপাকে পড়ছেন ত্যাগী ও নির্যাতিত বিএনপি নেতাকর্মীরা। যখনই সাধারণ নেতাকর্মী বা ছাত্রদলের কেউ এই নব্য অনুপ্রবেশকারীদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাচ্ছেন, তখনই উল্টো আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসী বাহিনী ও নব্য সুবিধাভোগীরা মিলে তাদের ওপর হামলা ও নির্যাতন চালাচ্ছে। এমনকি জাতীয়তাবাদী শক্তির মূল চালিকাশক্তি যুবদল ও ছাত্রদলের অনেক নেতাকর্মীও এই চক্রের রোষানলে পড়ে নানাভাবে নিপীড়নের শিকার হয়। ​ফ্যাসিস্ট পুলিশ প্রশাসনের নিষ্ঠুর নির্যাতনের শিকার হওয়া তৃণমূলের ভুক্তভোগী নেতাকর্মীরা অত্যন্ত ক্ষোভ ও উদ্বেগের সঙ্গে জানান, যাঁরা বিগত দিনে জীবন বাজি রেখে স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন করেছেন, আজ তাঁদের কোণঠাসা করে আওয়ামী লীগের দালাল ও সুবিধাভোগীদের পুনর্বাসন করা হচ্ছে। ​নব্য অনুপ্রবেশকারীরা দলের নাম ভাঙিয়ে চাঁদাবাজি ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করলেও দায় পড়ছে পরীক্ষিত নেতাকর্মীদের ওপর, যা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। অবিলম্বে এই আঁতাত ও দোসরদের চক্রান্ত প্রতিহত করে যাত্রাবাড়ী, ডেমরা ও কদমতলী এলাকায় স্বচ্ছ ও পরীক্ষিত রাজনৈতিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনার জোর দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

লেখকঃ
মোঃ এমদাদুল হক মিলন
সম্পাদক ও প্রকাশক
দৈনিক সারা দিনের খবর।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *