কোন জমিদার বা প্রভাবশালী ব্যক্তি খাস জমি দখল করে রাখলে উদ্ধারের নিয়ম
মোঃএমদাদুল হক মিলন
খাস জমি সরকারি সম্পত্তি, তাই কোনো জমিদার বা প্রভাবশালী ব্যক্তি দখল করলে তা অবৈধ দখল হিসেবে গণ্য হয় এবং জমি সরকারের কাছে ফিরিয়ে নেওয়ার নিয়ম রয়েছে।
খাস জমি উদ্ধারের নিয়ম ও প্রক্রিয়া
১. অভিযোগ দায়ের: সহকারী কমিশনার (ভূমি) অর্থাৎ এসিল্যান্ডের কাছে লিখিত অভিযোগ করতে হবে। এছাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বা জেলা প্রশাসকের (ডিসি) কাছেও আবেদন করা যায়। সরকার নিজেও উদ্যোগ নিয়ে অবৈধ দখল চিহ্নিত করে উচ্ছেদ করতে পারে।
২. সরেজমিন তদন্ত: অভিযোগ পাওয়ার পর ভূমি অফিস খতিয়ান, ম্যাপ ও রেকর্ড যাচাই করে সরেজমিন তদন্ত করে জমিটি খাস খতিয়ানভুক্ত কি না তা নিশ্চিত করে।
৩. উচ্ছেদ আদেশ: জমিটি খাস প্রমাণিত হলে দখলদারকে উচ্ছেদের নোটিশ দেওয়া হয় এবং নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট বা মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে উচ্ছেদ করে জমি সরকারের নিয়ন্ত্রণে ফিরিয়ে নেওয়া হয়। প্রয়োজনে জেলা প্রশাসক সরাসরি মামলা করতে পারেন।
৪. শাস্তির বিধান: অবৈধভাবে খাস জমি দখলে রাখলে বা অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ করলে কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ডের বিধান রয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, হাট-বাজারের খাস জমি দখলে এক বছরের কারাদণ্ড বা অনধিক ৫ লাখ টাকা জরিমানা, এবং অবৈধ স্থাপনা সরকারের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত হবে।
জরুরি বিষয়গুলো • জমিদারের নামে দলিল থাকলেও লাভ নেই: খাস খতিয়ানের জমি কেউ নিজের নামে রেকর্ড করে বিক্রি করলেও তা আইনত অবৈধ; সেই দলিল বাতিল হবে এবং জমি সরকারের নিয়ন্ত্রণে ফিরে যাবে। • নতুন আইনে দ্রুত উদ্ধার: এখন দীর্ঘ দেওয়ানি মামলার বদলে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে আবেদনের মাধ্যমে দ্রুত জমি উদ্ধার সম্ভব। অবৈধ দখল প্রমাণিত হলে সর্বোচ্চ ২ বছর কারাদণ্ড পর্যন্ত হতে পারে। আপনি কী করবেন
যদি আপনার এলাকায় খাস জমি জমিদার বা কেউ দখল করে থাকে, তাহলে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন ভূমি অফিস বা এসিল্যান্ডের কাছে লিখিত অভিযোগ করুন। চাইলে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ বা ভূমি মন্ত্রণালয়ের হটলাইনে (১৬১২২) জানাতে পারেন।